সক্রেটিসের মতে, নির্বাচনে ভোটদান একটি দক্ষতা, এলোমেলো স্বীকৃতি নয়। এবং যে কোনও দক্ষতার মতো এটিও মানুষকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শেখানো দরকার। নাগরিককে শিক্ষা ব্যতীত ভোট দেওয়া যেমন ঝড়ের মধ্যে সামোসে ট্রিমের নৌযানের দায়িত্বে রাখা ততটা দায়িত্বজ্ঞানহীন।

প্লেটোর সংলাপগুলিতে, গ্রীক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা পিতা - সক্রেটিসকে গণতন্ত্রের সম্পর্কে অত্যন্ত হতাশাবাদী হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের ষষ্ঠ বইয়ে , প্লেটো বর্ণনা করেছেন সক্রেটিসকে অ্যাডিমন্টাস নামের একটি চরিত্রের সাথে কথোপকথনে পড়ে এবং তাকে একটি জাহাজের সাথে একটি সমাজের তুলনা করে গণতন্ত্রের ত্রুটিগুলি দেখার চেষ্টা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাকে সক্রেটিস প্রশ্ন করেন, জাহাজটি যখন সমুদ্রে যাত্রা করবে তখন নাবিক হিসেবে কাকে নির্বাচন করা উচিৎ? দক্ষ একজন নাবিককে নাকি ইচ্ছেমত যেকোনো একজন ব্যক্তিকে? উত্তর হিসেবে অ্যাডিমন্টাস প্রথম অপশনটিকে বেছে নিলেন। সক্রেটিস এবারে তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তাইলে যেকোনো বুইড়া কেন ঠিক করবে দেশের শাসক কে হবে আর কে হবে না?’এখানে সক্রেটিসের পয়েন্ট বুইড়াবিদ্বেষ নয়, বরং তাঁর পয়েন্ট হচ্ছে, ইলেকশনে ভোট দেয়া একটি স্কিল, কোন ইন্টুইশন না। আর এই স্কিল অর্জন করতে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষার, যে শিক্ষা তাকে যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে এবং রাষ্ট্র ও নিজের কিসে ভালো হবে সে সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে। তাকে করে তুলবে রাজনীতিসচেতন। অন্যথায় দুষ্টু রাজনীতিবিদের মিষ্টি কথা এবং উন্নয়নের ফাঁপা প্রতিশ্রুতিতে সহজেই বিভ্রান্ত হবে সে। বহুল প্রচলিত একখানা কথা আছে, “দেশের জনগন যেরকম, সেখানকার শাসকও সেরকমই হয়।” গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে প্রবাদটি খাপে খাপ মিলে যায় । 


ধরা যাক, কোনো দেশের ইলেকশনে দুজন ভোটপ্রার্থীর একজন মিষ্টির দোকানদার, এবং অপরজন ডাক্তার। “মানুষকে ডাক্তার তিতা ওষুধ খাওয়ায় এবং তাদের পছন্দের খাবার খেতে বাঁধা দেয়”, এই বলে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মিষ্টির দোকানদার লোক হিসেবে ডাক্তারকে জনগনের কাছে খারাপ প্রমানের চেষ্টা করলেন। আরো প্রতিশ্রুতি দিলেন জনগনকে, তাকে ভোট দিলে জনগন যত চায় মিষ্টি খেতে পারবে। নিজের ডিফেন্সে ডাক্তার বললেন, তিনি যা করেন, খারাপ লাগলেও তা জনগনের ভালোর জন্যেই করেন। এইক্ষেত্রে দেশের ভোটাররা যদি অশিক্ষিত এবং নিজেদের ব্যাপারে অসচেতন হয়ে থাকে, তবে ইলেকশনে কে জিতবে?
সক্রেটিস ভোটের গণতন্ত্র অপছন্দ করতেন। কেননা গণতন্ত্র থেকে সর্বোত্তম ফলাফল তখনই পাওয়া যায় জনগন যখন হয় শিক্ষিত। রাষ্ট্র এবং নিজেদের ভালোর ব্যাপারে র‍্যাশনাল চিন্তার ক্ষমতা যখন তাদের থাকে। অন্যথায় মিষ্টি কথার ফাঁদ এবং ভূল মানুষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ডাক্তারের পরিবর্তে মিষ্টির দোকানদারকে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় বসাবে।
সক্রেটিসকে অ্যাথেন্সের যুবকদের দুর্নীতির অভিযোগে ট্রাম্পড আপ করা হয়েছিল। এথেনিয়ানদের একটি জুরিকে মামলার তদন্ত করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং এই সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে দার্শনিক (সক্রেটিস)  দোষী ছিলেন।
তার অপরাধ কি ছিল? 
 তিনি এথেন্সের লোকদেরকে যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে বলেছিলেন এবং যুক্তিযুক্ত চিন্তাভাবনার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে আপনি যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন তার ইতিহাস, পটভূমি, শিক্ষা এবং আক্ষরিক অর্থে সমস্ত কিছুই পড়ুন। তবেই আপনি সঠিক ব্যক্তির পক্ষে ভোট দিতে সক্ষম হবেন।

সক্রেটিসের এই ধারণাটি কিছু দুর্নীতিবাজ নেতার পক্ষে অনুকূল ছিল না, কারণ যদি **বোকা জ্ঞানী হয়ে যায় তবে তারা কীভাবে সেই ব্যক্তিকে বোকা বানাবে**।